জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সাথে এক বা একাধিক আশ্রিতবাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বাক্য বলে। যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। যেমন: যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
জটিল বাক্য চেনার শর্ত ২টি। যথা:
ক. দুটি খণ্ডবাক্য একটি শর্ত দ্বারা যুক্ত থাকবে।
খ. সাপেক্ষ যোজক অথবা সর্বনাম (যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা, যদি-তবে, যদিও-তবুও) থাকবে। উদাহরণ:
আশ্রিত বাক্য | প্রধান খণ্ডবাক্য |
| যে পরিশ্রম করে, | সেই সুখ লাভ করে। |
| সে যে অপরাধ করেছে, | তা মুখ দেখেই বুঝেছি। |
| যতই পরিশ্রম করবে, | ততই ফল লাভ করবে। |
| যখন আমার পড়াশোনা শেষ হবে, | তখন আমি খেলতে যাব। |
| যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, | সে আমার ভাই। |
| যদি তুমি যাও, | তবে তার দেখা পাবে। |
| যখন বৃষ্টি নামল, | তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম। |
আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
ক. বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত হয়। যথা: আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।
খ. বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন: লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি। ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা। যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।
গ. ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন: যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে। তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি। যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।